রেকর্ড দাম সত্ত্বেও ভারতে খুচরায় স্বর্ণের চাহিদা গত সপ্তাহে স্থিতিশীল ছিল। একই সময় চীনে চান্দ্র নববর্ষের আগাম চাহিদা বজায় থাকায় সংযোজিত মূল্যে স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ভারতের ডিলাররা গত সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ দামের তুলনায় আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ১২ ডলার ছাড়ে স্বর্ণ বেচাকেনা করেছেন। এটি আগের সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৬ ডলারের প্রিমিয়ামের তুলনায় কম। উল্লেখ্য, এতে ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত আছে।
গত শুক্রবার ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ রুপি (১ হাজার ৫৭৫ ডলার ১০ সেন্ট)। গুজরাটের অ্যাম্রাপালি গ্রুপের সিইও চিরাগ ঠাক্কার বলেন, ‘স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তাই চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে।’
মুম্বাইভিত্তিক এক প্রাইভেট ব্যাংকের বুলিয়ন ডিলার বলেন, ‘ক্রয় প্রধানত স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েন ও বারের চাহিদা কম। এছাড়া স্বর্ণের গহনার চাহিদা প্রায় শূন্য।’
চীনে গত সপ্তাহে স্পট মার্কেটের তুলনায় আউন্সপ্রতি ১২ ডলারের ছাড় থেকে ৩ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ লেনদেন হয়েছে। এটি আগের সপ্তাহের সর্বোচ্চ ২১ ডলারের প্রিমিয়ামের তুলনায় কম। স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘চীনে চান্দ্র নববর্ষ শুরু হচ্ছে। এর আগে চাহিদা বেড়েছে মূল্যবান ধাতুটির। রেকর্ড মূল্য সত্ত্বেও দেশটিতে সংযোজিত মূল্যে স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত। কারণ এশিয়ার দেশগুলোয় দাম বেড়ে গেলে চাহিদা সাধারণত কমে যায়।’
সিঙ্গাপুরে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২০ সেন্ট ছাড় থেকে সর্বোচ্চ ২ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হয়েছে। হংকংয়ে মূল্যবান ধাতুটি সমমূল্যে থেকে ৪ ডলার প্রিমিয়ামে বেচাকেনা হয়েছে। এছাড়া জাপানে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৬ ডলার ছাড় থেকে ১ ডলার প্রিমিয়ামে বিক্রি হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সমান।